আগামী তিন বছরের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে কিবোর্ডের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। পরিবর্তে ভয়েস-নির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠবে। এর ব্যবহার ত্বরান্বিত করবে জেনারেশন আলফা (জেন-আলফা)। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি জাব্রার নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
জেন আলফা বলতে ২০১০ সালের পর জন্ম নেয়া শিশুদের বোঝায়। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস ও জাব্রার গবেষণা বলছে, ২০২৮ সালের মধ্যে জেন আলফা হয়তো কিবোর্ড ব্যবহার না করে কাজে অভ্যস্ত হবে। তারা মূলত ভয়েস বা কথা বলার মাধ্যমে ডিভাইসের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং প্রয়োজনে পরে লেখা বা সম্পাদনা করবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ১৪ শতাংশ জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করার সময় টাইপ করার চেয়ে ভয়েস ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন।
জাব্রার গ্লোবাল হেড অব ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন পল সেপটন বলেছেন, ‘নিকট ভবিষ্যতের এআই-চালিত কর্মক্ষেত্রে কাজের প্রথম খসড়া লেখা নয়, কথার মাধ্যমে তৈরি হবে। টাইপের কাজ কেবল পরবর্তী সময় সম্পাদনার জন্য থাকবে, সৃজনশীল কাজের জন্য নয়।’
প্রতিবেদন বলছে, ভয়েস ইনপুট ব্যবহার করে কম্পিউটার বা ডিভাইসের সঙ্গে কাজ করলে কর্মরত বাবা-মা বা যারা একসঙ্গে একাধিক কাজ করেন তাদের জন্য সুবিধা হয়। কারণ এক্ষেত্রে হাত ব্যবহার না করেও কাজ চালিয়ে যাওয়া যায়। ফলে কাজের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
তবে ভবিষ্যতে কাজের জায়গায় প্রথমেই ভয়েস ব্যবহার হবে, তা মানতে নারাজ অনেকেই। কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলছেন, এ পদ্ধতি নতুন ধরনের অসুবিধা ও জটিলতাও তৈরি করতে পারে।
ইএসএসইসি বিজনেস স্কুলের ম্যানেজমেন্ট প্রফেসর ফ্যাব্রিস কভারেটা বলেন, ‘বাচন প্রধান ইনপুট পদ্ধতি হয়ে উঠলেও তা লিখিত যোগাযোগকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করবে না। ভয়েস মেসেজগুলো সহজে স্কিম করা (দ্রুত পড়ে কোনো লেখার মূল বিষয় বোঝা), কিওয়ার্ড খুঁজে বের করা ও সংরক্ষণ করা কঠিন। পাশাপাশি এগুলো কাজেও বেশ ধীর।’
ইএইচএল হসপিটালিটি বিজনেস স্কুলের বার্ট্রান্ড অডরিন বলেন, ‘কথ্য ভাষাকে পরিষ্কার লেখা আকারে রূপান্তর (ট্রান্সক্রাইব) করা সহজ নয়। ফলে ভয়েস নোটগুলোকে লেখা আকারে রূপান্তর করা না গেলে কারো কাজ বা সিদ্ধান্তের জন্য দায় নেয়া কঠিন হয়ে যাবে। এছাড়া ভয়েস মেসেজগুলো স্থায়ীভাবে সংরক্ষণও করা যায় না।’
তার মতে, ডেস্কে বসে কিবোর্ড ব্যবহার কমে আসতে পারে, তবে এটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে না। ভবিষ্যতে কথার মাধ্যমে কাজ শুরু হলেও তা লিখিত আকারে থাকতে হবে।
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, কর্মীদের কাছে এখন যোগাযোগের জন্য আগে থেকে অনেক বেশি টুলস আছে, যেমন চ্যাট অ্যাপ, ভিডিও কল, মেসেজিং প্লাটফর্ম। তবু তাদের অনেকেই ঠিকভাবে একে অন্যের সঙ্গে কাজ মিলিয়ে করতে পারছেন না। ভয়েসচালিত জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করলে কর্মীরা দ্রুত তথ্য তৈরি ও সম্পাদনা করতে পারবেন। ফলে তাদের কাজের ফল ভালো হবে এবং সময় বাঁচবে।






















