চলতি বছরের আগস্টের শেষদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এছাড়া, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং ২০২৭ সালের এপ্রিলে সম্পন্ন হবে বলে জানান মন্ত্রী।
আজ শুক্রবার বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীতে এক উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি যতই সমৃদ্ধ হচ্ছে, শিল্পকারখানা সচল রাখতে ও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানির চাহিদাও তত দ্রুত বাড়ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট কম-কার্বন বা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।’
এর আগে, কারিগরি অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিউক্লিয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট সেকশনের টেকনিক্যাল লিড মেহমেত চেইহানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আজ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন শুরু করেন।
এই প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন সংস্থাটির সিনিয়র নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ার এরিক জঁ বার্নার্ড ম্যাথেট। আইএইএ পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করা।
ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও আরও এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে পারব আমরা। এর ফলে ২০২৭ সালের শেষ বা ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি থেকে পূরণ করা সম্ভব হবে।’
গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে ফুয়েল বা পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে তার কার্যক্রম বা অপারেশনাল ধাপে প্রবেশ করে।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানানা, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে চুল্লির কোরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি সফলভাবে লোডিং করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব প্রসেসিং সিস্টেমের নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ অপারেশন নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
টেস্টিং ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রথম ইউনিটটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চেইন রিঅ্যাকশন (শৃঙ্খল বিক্রিয়া) শুরু করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।





















