চীনের কালোবাজারে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপের দাম অর্ধেকের বেশি বেড়েছে। অবৈধ রফতানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান ও চীনা কোম্পানিগুলোর বাড়তি চাহিদার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
খুচরা চিপ বিক্রেতারা জানান, এনভিডিয়ার ফ্ল্যাগশিপ ‘ডিজিএক্স বি৩০০’ সার্ভারের দাম গত ছয় মাসে দ্বিগুণ হয়েছে। আগে এর দাম ছিল ৪০ লাখ আরএমবি বা চীনা ইউয়ান। বর্তমানে তা বেড়ে ৮০ লাখ আরএমবি বা ১১ লাখ ডলারে ঠেকেছে। যুক্তরাষ্ট্রে সার্ভারটির স্বাভাবিক খুচরা মূল্য প্রায় ৪ লাখ ডলার। অন্যদিকে নতুন স্টার্টআপগুলোর পছন্দের ‘আরটিএক্স ৬০০০ প্রো’ চিপের দাম বছরের শুরুতে ছিল ৫০ হাজার আরএমবি। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার আরএমবিতে।
ওয়াশিংটনের বিধিনিষেধের কারণে চীনে এসব চিপ রফতানি করা নিষিদ্ধ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ির কারণে চীনে চিপ ‘পাচারের’ পথগুলোও সংকুচিত হয়ে এসেছে। তবে বেইজিং স্থানীয় চিপ ব্যবহারে জোর দিলেও এনভিডিয়ার প্রসেসরের চাহিদা কমেনি।
নাম উল্লেখ না করার শর্তে এক বিক্রেতা জানান, মধ্যস্থতাকারীদের জন্য এখন এসব চিপের ব্যবসা চালিয়ে নেয়া অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত বছরের শেষ দিকে মার্কিন প্রশাসন অবৈধভাবে চিপ রফতানির বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করে। এর পরই চিপের সরবরাহ কমে যায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত মার্চে প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের এনভিডিয়া এআই সার্ভার চীনে পাচারের অভিযোগে সুপারমাইক্রোর একজন সহপ্রতিষ্ঠাতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তাইওয়ান ও মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষও এখন চিপ পাচার রুখতে তদন্ত শুরু করেছে।
এনভিডিয়া জানায়, চোরাই পণ্য দিয়ে ডেটা সেন্টার তৈরি করা একটি ভুল পথ। এআই ডেটা সেন্টার অনেক বড় ও জটিল। চোরাই চিপের জন্য কোম্পানি কোনো ধরনের মেরামত বা কারিগরি সহায়তা দেয় না।
এদিকে চীন সরকারও হুয়াওয়ের মতো স্থানীয় কোম্পানির তৈরি প্রসেসর ব্যবহারে গতি বাড়াতে চাইছে। সম্প্রতি ফ্ল্যাগশিপ এআই প্রসেসর ‘অ্যাসেন্ড ৯৫০পিআর’ বাজারে এনেছে হুয়াওয়ে। তবে নিজস্ব চিপের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক চীনা ক্রেতা বিকল্প পথ খুঁজছেন।




















