কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের প্রভাবে বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিজেদের জনপ্রিয় কয়েকটি পণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ও মাইক্রোসফট।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি অ্যাপল তাদের ম্যাক ও আইপ্যাড সিরিজের বিভিন্ন ডিভাইসের নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে। এতে কয়েকটি মডেলের দাম ২০ শতাংশ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বেস মডেলের ম্যাকবুক এয়ারের দাম ১ হাজার ৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৯৯ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে ম্যাকবুক প্রোর এন্ট্রি-লেভেল সংস্করণের মূল্য ১ হাজার ৬৯৯ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার।
আইপ্যাড সিরিজেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আইপ্যাড এয়ারের প্রারম্ভিক মূল্য ৫৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ৭৪৯ ডলার এবং আইপ্যাড প্রোর দাম ৯৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপলের বাজেট-সেগমেন্টের ম্যাকবুক নিওর মূল্য ৫৯৯ ডলার থেকে ৬৯৯ ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় মূল্যসংশোধন দেখা গেছে ম্যাক স্টুডিও এম৩ আল্ট্রা ডেস্কটপ কম্পিউটারে। ডিভাইসটির দাম ৩ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ৫ হাজার ২৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তি উৎপাদন ব্যয় নিজেদের মধ্যে বহন করে গ্রাহকদের সুরক্ষা দেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প ছিল না।
প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, এআই ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের ফলে মেমোরি ও স্টোরেজ উপাদানের চাহিদায় নজিরবিহীন চাপ তৈরি হয়েছে এবং এত দ্রুত উপকরণের দাম বৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি।
মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে অ্যাপলের শেয়ারের দরেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ৬ শতাংশের বেশি কমে যায়।
অন্যদিকে, মাইক্রোসফটও মেমোরি ও স্টোরেজ ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব থেকে বের হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটি তাদের এক্সবক্স গেমিং কনসোলের ৫১২ গিগাবাইট এবং ১ টেরাবাইট সংস্করণের দাম যথাক্রমে ১০০ ও ১৫০ ডলার বাড়িয়েছে।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, সরবরাহকারীদের সঙ্গে বিকল্প সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হলেও কনসোলে ব্যবহৃত মেমোরি ও স্টোরেজ উপাদানের মূল্য আড়াই গুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রতিযোগিতা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক ইলেকট্রনিকস বাজারে মূল্যচাপ আরও বাড়াতে পারে।





















