সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে নিজেদের বৈশ্বিক আধিপত্য ধরে রাখতে বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এ খাতে ৫৭ হাজার ৬০০ কোটি বা ৫৭৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা দেন সম্প্রতি। মহাপরিকল্পনাটি সফল করার মূল দায়িত্বে থাকবে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ দুই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স। খবর রয়টার্স।
টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং একে একটি ‘মহা-উত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে দ্রুত আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল উপাদানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।’
পরিকল্পনাটি সেমিকন্ডাক্টর, ফিজিক্যাল এআই ও ডেটা সেন্টারের তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সিউল ও এর আশপাশের এলাকার বাইরে অন্যান্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে প্রকল্পগুলো ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশা করছে।
দেশটির শিল্প মন্ত্রণালয় জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে দুটি করে নতুন চিপ উৎপাদন কারখানা (ফ্যাব) তৈরির জন্য স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স নিজেদের সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিয়ে ৮০০ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৫১৮ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করবে। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমের গোয়াংজু শহর ও দক্ষিণ জিওলা প্রদেশ এ প্রকল্পে আরো ৫-২০ ট্রিলিয়ন ওয়ান বিনিয়োগ করবে। অন্যদিকে সিউলের কাছাকাছি চুংচেওং এলাকায় একটি চিপ প্যাকেজিং ক্লাস্টার তৈরির জন্য আরো ৮১ ট্রিলিয়ন ওয়ান ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কোয়ান জানান, বাজারে চিপের দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে নতুন করে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইয়োঙ্গিন ও পিয়ংট্যাকের মতো বিদ্যমান উৎপাদন কেন্দ্রগুলো এরই মধ্যে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে। নতুন দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলটিতে প্রচুর অব্যবহৃত বিদ্যুৎ সুবিধা থাকায় একে চিপ উৎপাদনের মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকার পাঁচ বছরের মধ্যে ডায়নামিক র্যান্ডম-অ্যাকসেস মেমোরি (ডিআরএএম) উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এদিকে মহাপরিকল্পনা নিয়ে দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলের নেতারা এ প্রকল্পের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ৮৫ শতাংশ ভোটার গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লি জে মিয়ংকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এমন একসময়ে এ ঘোষণা এল, যখন জনমত জরিপকারী সংস্থা রিয়েলমিটারের তথ্যানুযায়ী, প্রেসিডেন্ট লির জনপ্রিয়তা টানা ছয় সপ্তাহ কমে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।






















