যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিদেশে তৈরি উন্নতমানের হিউম্যানয়েড রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হিউম্যানয়েড রোবট খাতে প্রধান অংশীদার হওয়ায় মূলত চীনকে লক্ষ্য করেই এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। খবর বিবিসি।
একই সঙ্গে ডেটা সেন্টার ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত বিদেশে তৈরি নতুন পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার বলেন, ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ রাখতেই এ পদক্ষেপ নেয়া। এফসিসি এসব পণ্যকে কাভার্ড লিস্টে যুক্ত করেছে। এ তালিকায় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত পণ্য ও সেবার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’
তবে এ নিষেধাজ্ঞা আগে অনুমোদন পাওয়া বা এরই মধ্যে আমদানি হওয়া রোবট ও ইনভার্টারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কেবল নতুন তৈরি পণ্যের ওপর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এফসিসির দাবি, বিদেশে তৈরি পাওয়ার ইনভার্টার ব্যবহার করলে অনেক প্রতিষ্ঠান দূর থেকে যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ, তথ্য চুরি বা সাইবার হামলার সুযোগ পেতে পারে। একইভাবে অন্য দেশে তৈরি উন্নত রোবট নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ বা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের অভিযোগ, বাণিজ্য ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে চীনা দূতাবাস।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তি ও বাণিজ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র উন্নত সেমিকন্ডাক্টর চিপ চীনের কাছে বিক্রিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। অন্যদিকে চীনও বিরল খনিজ রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, যা বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে।




















