পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে কুমিল্লা ডেটা সেন্টারে ৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করেছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ডেটা সেন্টারের প্রায় ২ হাজার ৫০০ বর্গফুট ছাদে স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাটি। এটি থেকে বছরে প্রায় ৮৫ হাজার কিলোওয়াট-ঘণ্টা সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশা করছে বাংলালিংক।
দিনের বেলায় পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকা সময়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাটি ডেটা সেন্টারের গ্রিডনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ৬ শতাংশ কমাতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে বছরে প্রায় ৫২ টন কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যয় বাবদ প্রায় ১২ লাখ টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
বাংলালিংকের ভাষ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই ব্যবহার প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন (ESG) লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন বা জরুরি পরিস্থিতিতে ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম সচল রাখতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সহায়ক হবে।
এর আগে ২০২৫ সালে গাজীপুর ডেটা সেন্টারে ৮০ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করেছিল বাংলালিংক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এর মাধ্যমে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের মধ্যে ডেটা সেন্টারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ প্রথম নেয় তারা।
কুমিল্লার প্রকল্পটি সেই উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতা বলে জানিয়েছে অপারেটরটি। বাংলালিংকের মতে, ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বাংলালিংকের চিফ টেকনোলজি অ্যান্ড ইনফরমেশন অফিসার (CTIO) হুসেইন তুর্কার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয়ও কমানো যাচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে নেটওয়ার্ক আরও টেকসই ও নির্ভরযোগ্য হবে।
তিনি বলেন, “টেকসই পরিবেশ শুধু আমাদের প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।”
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও বিভিন্ন স্থাপনা ও নেটওয়ার্কে সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।




















