বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ সংকটের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে দেশের মোবাইল শিল্পে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে জটিলতা, ডলারের উচ্চমূল্য এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন মোবাইল সংযোজন ও উৎপাদন কারখানায়। এর ফলে বাজারে নতুন মডেলের সরবরাহ কমে যাচ্ছে, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্মার্টফোনের প্রসেসর, মেমোরি চিপ, ডিসপ্লে কন্ট্রোলার এবং ক্যামেরা সেন্সরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের জন্য বাংলাদেশকে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বিশ্ববাজারে চিপের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয় শিল্পও সংকটে পড়েছে।
মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) নেতারা জানান, নির্ধারিত সময়ে কাঁচামাল না পাওয়ায় অনেক কারখানাকে উৎপাদন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বাজারের চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে উঠছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক বছর আগে দেশে মোবাইল উৎপাদন শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগও ধীরগতির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম মূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশই একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি। তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরবরাহ উৎস বহুমুখীকরণ, কর কাঠামোয় সহায়তা এবং স্থানীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।
এদিকে বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু মডেলের দামও বেড়েছে। এতে ভোক্তাদের পাশাপাশি বিক্রেতারাও বিপাকে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে দেশের মোবাইল শিল্প আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
খাতসংশ্লিষ্টরা সরকারের কাছে নীতিগত সহায়তা এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, উপযুক্ত সহায়তা পেলে বর্তমান সংকট কাটিয়ে আবারও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারবে দেশের মোবাইল শিল্প।




















