পবিত্র ঈদুল আজহার দিন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন গ্রামীণফোনের পাওনাদার শ্রমিকরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, ন্যায্য পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে তারা প্রতিদিন কর্মসূচি পালন করছেন। ২২ জুন, সোমবার অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী নেতারা বলেন, ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়াসহ তাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে পাওনা আদায়ের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখে গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয় জিপি হাউজের সামনে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং বিভিন্ন স্থানে দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
চট্টগ্রামেরর গ্রামীণফোনের আঞ্চলিক অফিসের সামনে শান্তিপূর্ন গণ-অবস্থান থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান এবং সিবিএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক ফজলুর ছবিতে প্রতীকী জুতা নিক্ষেপ করে নিজেদের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ ঝেড়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দেশের অন্যতম বৃহৎ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও করপোরেট প্রচারণায় মানবতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের পাশে থাকার বার্তা তুলে ধরলেও দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। একটি আলোচিত গ্রাফিতিতে লেখা হয়েছে, “গ্রামীণফোন, ক্যাম্পেইনে আবেগ, পোস্টারে মানবতা, বাস্তবে শ্রমিকের বঞ্চনা।” এর ইংরেজি অনুবাদও সংযুক্ত করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির প্রচারিত মানবিক বার্তা ও শ্রমিকদের প্রতি বাস্তব আচরণের মধ্যে যে বৈপরীত্য রয়েছে, তা তুলে ধরতেই এসব বার্তা ব্যবহার করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবি, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রচারণার বিপরীতে তাদের পাওনা পরিশোধের বাস্তবতায় বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, জিপি হাউজের সামনে চলমান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যদিও আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী মধ্যবয়সী ও দীর্ঘদিনের পাওনাদার শ্রমিক। তাই টেলিনর—হয় কর্মীদের ন্যায্য পাওনা ADR-এর মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করুন, নয়তো বাংলাদেশের মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে এখান থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
তারা বলছেন, নিজেদের প্রাপ্য অর্থ আদায়ের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি তাদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, ন্যায্য পাওনা আদায়ের বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দেয়ালচিত্রেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, কাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ, দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণ, গণবই পাঠ এবং প্রতিবাদী গান-কবিতার মাধ্যমে তারা দীর্ঘ দিন ধরেই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। দাবি আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
গ্রামীণফোন জানায়, “গ্রামীণফোনের কিছু সাবেক কর্মী চাকুরি সংক্রান্ত নানাবিধ দাবি-দাওয়া নিয়ে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন সময়ে জিপি হাউজের সামনে সমবেত হয়েছেন। আমাদের জানা মতে, তাদের বেশিরভাগ বেশ কয়েক বছর আগেই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যান এবং আইন অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য গ্রহণ করেন। এছাড়া তারা যে দাবিগুলো তুলেছেন সেগুলো বর্তমানে মহামান্য আদালতে বিচারাধীন। বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি গ্রামীণফোন শ্রদ্ধাশীল। তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতেই এসব বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে বলে বিশ্বাস করে গ্রামীণফোন। সম্প্রতি আমরা আরো লক্ষ্য করছি যে, এই ব্যক্তিরা গ্রামীণফোন সম্পর্কে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।”




















